বশীকরন কি কেনো করা হয়

বশীকরন কি
সাধারনত যখন কোন ব্যাক্তিকে আপনার প্রয়োজন
সেটা ভালোবাসার জন্য হোক বা আপনার কোন
কাজে ব্যবহারের জন্য হোক যদি তাকে আপনার
কাজে ব্যবহার করতে না পারেন সে যদি আপনার শত
চেষ্টাতেও আপনার কথা না শুনে তবে তাকে বাধ্য
করার জন্য তান্ত্রিক মতে যে পদ্ধতী ব্যবহার করা হয়
তাকেই বশিকরণ বলা হয়। সাধারনত বশিকরণে একজন
ব্যক্তি বা নারী অপর ব্যক্তির সর্ম্পন্ন আয়ত্তে
অর্থাৎ অনুগত্ত্ব থাকে। এটা কয়েক ভাবেই করা সম্ভব
সাধারনত যে সকল ব্যক্তির রাষ ভারি তাদের
কথাতেই অন্যরা অনুগত্ত্ব থাকে কিন্তু সাধারন
লোকের জন্য কিছু পদ্ধতী ব্যবহার করা হয়। যেমন
ত্রাটক, মন্ত্র, তন্ত্র, টোটকা, তাবিজ, দোওয়া
ইত্যাদি। কিন্তু এ সবের মধ্যে ত্রাটক’ই আমার মতে
সর্বপেক্ষা কার্যক্ষম কিন্তু অনেকে অন্যগুলোতেও
কাজ করে থাকে নিয়ম মাফিক কাজ করলে যে কোন
টাতেই দ্রুত কাজ করা সম্ভব। তবে বর্তমান যুগে যেহুতু
মানুষের মুখের সিদ্ধি নাই, আত্তার সিদ্ধি নাই তাই
সকল ক্ষেত্রে দেখা যায় মন্ত্র বা দোওয়ার চাইতে
টোটকা বেশি ফলবান। তবে যদি আপনি চান যেটা
ইচ্ছা প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। এর জন্য কয়েকটি
বিষয় আপনাকে লক্ষ রাখতে হবেঃ- যেমন আপনাকে
তান্ত্রিক নিয়ম যানতে হবে তান্ত্রিক নিয়ম না
যানলে আপনি যদি প্রকৃত বৌশল্যকরণী গাছও নিয়ে
আসেন তবু সেটা মৃত্যুর কারন বই জীবন দান করতে ব্যর্থ
হবে। এবং বশিকরণ কার্যে হাত দেওয়ার আগে
কয়েকটি নমুনা আপনাকে যোগার করতে হবে-নিচে
তার বিবরণ দেওয়া হলো তবে সব গুলো নয় এখানকার
অন্তত্য দুটি জিনিস যোগার করতে পারলেই আপনি
অবশ্যই কাজে সফল হতে পারবেনঃ-
1. আপনার পছন্দের ব্যক্তির নাম।
2. আপনার পছন্দের ব্যক্তির মায়ের নাম।
3. আপনার পছন্দের ব্যক্তি ছেলে হলে তার পিতার
নাম।
4. আপনার পছন্দের ব্যক্তির ছবি।
5. আপনার পছন্দের ব্যক্তি প্রতিদিন যে পথে
যাতায়াত করে সেই পথ।
6. মেয়ের মাথার চুল।
7. মেয়ের পরনের কাপর।
8. মেয়ের ঋতু কালীন পরনের কাপর।
9. মেয়ের ঋতু স্নানের (গোসলের) পর তার যাওয়ার
রাস্তার পায়ের নিচের মাটি।
10. তার চলার সময় পায়ের নিচের মাটি।
11. তাকে খাওয়াতে পারবেন এমন একজন বাহক।
12. তার সাথে দেখা করার জন্য একটি স্থান।
13. তাকে ছুয়ে দিতে পারেন এমন অবস্থান।
14. তার গায়ে ফেলতে পারবেন এমন স্থান।
15. সে যে ঘরে থাকে তার অবস্থান যানা।
16. সে কখন ঘুমায় সেটার সময় যানা।
17. তার সাথে কথা বলতে পারবেন এমন সময়।
18. এমন কেউ যার মাধ্যমে তার কাছে কিছু পাঠাতে
পারবেন।
19. এমন কোন বস্তু বা ফুল যা তার হাত পর্যন্ত যাবে।।
উপরক্ত বস্তুগুলোর যে কোন দুইটি যদি আপনার কাছে
থাকে তবে তাকে যদি আপনি আপনার তান্ত্রিক/
মান্ত্রিক উপায়ে আপনার কবজায় আনাতে চান তবে
আপনি অবশ্যই সফল হবে।।
দ্রঃবঃ আপনারা যখন কোন কাজের জন্য
ফরমায়েস দিবেন, বিশেষ করে মেয়ে বা
ছেলেকে বশীকরন বা প্রেম পাওয়ার জন্য তার
আগে অবশ্যই আপনার নাম, আপনার বাবার নাম,
আপনার মায়ের নাম, আপনার জন্ম তারিখ ও যে
স্থানে আপনার জন্ম হয়েছে সেটার বিস্তারিত
ঠিকানা এবং আপনার ডান হাত অথবা বাম হাতের
তালুর একটি ছবি (সেটা স্ক্যান করে বা
মোবাইলে ছবি ) তুলে ই-মেইল করে পাঠাবেন।
সেই সাথে বাংলাতে আপনার সমস্যাটা লিখে
পাঠাবেন। আমাদের গ্রুপ সেটা পাওয়ার পর
আপনার সাথে বিস্তারিত কথা বলতে পারবে।।
আর আমাদের যা কিছু দেওয়ার বা বলার তা
মোবাইলে বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
প্রয়োজন বোধে আপনার ঠিকানায় কুরিয়ার
যোগে পাঠানো হবে। 
। সরাসরি
যোগাযোগ শুধু মাত্র যারা আমাদের রেগুলার
স্টুডেন্ট তাদের সাথে করা হয়ে থাকে। তবে রোগি ও কিছু সাধনা প্রশিক্ষনের জনো সরা সরি আসতে পারেন ।  তবে আসার আগে অবশ্যই। আমাদের সাথে ফোনে যোগা যোগ করতে হবে। সাইটের নিচে নাম্বার ও ঠিকানা দেয়া হলো

শত্রুর মূখ বন্ধ রাখার মন্ত


শত্রুর মুখ বন্ধ রাখার মন্ত।
মন্ত্র-ওঁ হ্রীং রক্ষ চামুন্ডে তুরু তুরু অমুকং যে
বশমানয় স্বাহা।
মেঘনাদস্য মূলস্ত মুখস্থং তারবেষ্টিতম্‌।
পরবাদী ভবেম্মুখোহথবা যাতিদিগন্তরম্ভ
শ্বেতগুঞ্জোন্থিতং মূলং মুখস্থং পরতুণ্ডজিৎ।।
প্রথমে উল্লিখিত মন্ত্র হাজার বার জপ করে সিদ্ধ
হতে হবে, তারপর পলাশ বৃক্ষের মূল ত্রিলৌহ বা তার
দ্বারা জড়িয়ে ধারণ করলে শত্রুমুখ স্তম্ভন হয়, অথবা-
শ্বেতগুঞ্জার মূল তুলে উক্ত মন্ত্রে অভিমন্ত্রিত করে
মুখে ধারণ করলে শত্রুমুখে স্তম্ভন হয়।
পূষ্যার্কে মধুবন্দাকং গৃহীত্বা প্রক্ষিপেদ্বুধঃ।
সভামধ্যে চ সর্বেষাং মুখাস্তম্ভঃ প্রজায়তে।।
রবিবার পুষ্যানক্ষত্রে যষ্টিমধুর মুল তুলে উপরোক্ত ‘ওঁ
হ্রীং চামুন্ডে’ মন্ত্রে সাতবার অভিমন্ত্রিত করে
সভাস্থলে নিক্ষেপ করলে সভাস্থ সকলের মুখ স্তম্ভন
হয়।

আপনার অবচেতন মনের শক্তি

আপনার অবচেতন মনের শক্তি যা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন।   আপনি আপনার অবচেতন মনের শক্তি সম্পর্কে ধারনা
করতে পারবেন না যতক্ষণ না পর্যন্ত এই শক্তিকে
আপনি পূর্ণভাবে ব্যবহার করছেন।অবচেতন মনের এই
শক্তি দিয়ে আপনি যে কোনো কিছু করতে পারবেন।
প্রতিনিয়ত আমাদের মস্তিষ্কে অসংখ্য নেতিবাচক
চিন্তা হানা দেয়।এইসব নেতিবাচক চিন্তা থেকে
আমরা নিজেদের একটা বলয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলি।
ফলে আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাই।এইসব
সীমাবদ্ধতা কিন্তু আমাদের নিজেদেরই সৃষ্ট,বাইরের
কোনো কিছু আমাদের মাঝে এই সীমাবদ্ধতা তৈরি
করে না।অর্থাৎ আমাদের চিন্তা-ভাবনার পদ্ধতিই
আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে।আর এখানেই আপনি আপনার
অবচেতন মনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
কিভাবে অবচেতন মন কাজ করে?
আমাদের সচেতন মন যে কোনো কিছুর সিদ্ধান্ত এবং
পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিভিন্ন তথ্য থেকে যা সে
গ্রহণ করে মস্তিষ্কের দুটি জায়গা হতে।এদের নাম
“Chatterbox” এবং “Higher-self” ।এরপর সচেতন মন
আমাদের অবচেতন মনকে সে পরিকল্পনা এবং
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে বলে।অবচেতন মন
কিন্তু এর ভালো-মন্দ বিচার করতে যায়না বা কোনো
প্রশ্নও করে না সচেতন মনকে এসব নিয়ে।অবচেতন মন
শুধুমাত্র তার শক্তিকে ব্যবহার করে আমাদের
যেদিকে যেতে হবে সেদিকে পরিচালিত করে এবং
অতীতে আমাদের কাজের উপর ভিত্তি সামনে যা
করতে হবে তা বলে দেয়।
কিন্তু অবচেতন মনের একটা ব্যাপার হলো আমাদের
সচেতন মন যদি কখনো কোনো ভুল করে তবে সে ভুল
থেকে বের করে আনার দায়িত্ব নেয় সে নেয়।তখন
অবচেতন মন সচেতন মনকে তার দায়িত্বের কথা মনে
করিয়ে দেয় যা সে ভুলে গিয়েছে এবং ক্ষেত্র
বিশেষ সে নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।এটি
আপনি যেমন ভাবেন তার চেয়েও অনেক বেশি
শক্তিশালী।
অবচেতন মনের ক্ষমতা যা যে কোনো কিছু বদলে
দিতে পারেঃ
আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় আমাদের চারপাশের
সমস্যা এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে যুদ্ধ করে।কিন্তু
আমাদের মস্তিষ্ক যখন নতুন করে আমাদের
পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে ভাবতে শুরু করে তখন কিছু
ব্যাপার পরিবর্তিত হতে শুরু করে যার কিছু লক্ষণ
আছে।এই পরিবর্তনের সময় আমাদের অবচেতন মনের
শক্তি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।এখানে কিছু উপায় দেয়া
আছে যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার
চিন্তা-শক্তির উন্নতি হয়েছে।
ভয়ের অনুভূতি কমে যাবেঃ
যখন অবচেতন মনের শক্তি বাড়বে তখন আপনার আগে
যেসব বিষয়ের উপর ভয় ছিল তা কমে যাবে।আপনার
সীমাবদ্ধতার গন্ডিও আরো ছোটো হবে।আপনার
সচেতন মনেই তখন সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটবে।
আপনার হতাশার অনুভূতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে
যা আপনাকে সবসময় উদ্বিগ্ন করে তুলতো এবং যা
ছিল দূর্বল অবচেতন মনের বহিঃপ্রকাশ।অবচেতন মন
শক্তিশালী হলে আপনি যে কোনো কঠিন সময়েও
ভেঙ্গে পড়বেন না।
শান্তিঃ
আপনার চারপাশের ভয় যখন কমে যাবে তখন আপনি
এক ধরণের শান্তি অনুভব করবেন।আপনার অবচেতন মন
তখন তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করা শুরু করবে।
চারপাশের সবকিছুতে শান্তি অনুভব করবেন আপনি।
আপনার জীবনে অনেক কঠিন সময় আসবে কিন্তু তবুও
সেই কঠিন সময়ে আপনার চিন্তা-ভাবনাকে আপনি
সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবেন।অর্থাৎ
অবচেতন মনের শক্তি তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠবে যখন
আপনি নিজেকে এবং চারপাশ নিয়ে শান্তি অনুভব
করবেন।
সুস্বাস্থ্যঃ
শক্তিশালী অবচেতন মনের আরেকটি ভূমিকা হলো
এটি আমাদের স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে।যখন
অবচেতন মন আপনার মস্তিষ্কের সন্নিবেশিত তথ্য
নিয়ে কাজ করবে তখন আপনার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি
পাবে এবং আপনার নিজেকে জরাজীর্ণ মুক্ত মনে
হবে।আপনি নিজের মাঝে তারুণ্যের শক্তি অনুভব
করবেন যারা নেতিবাচক চিন্তা করে তাদের চেয়ে।
আপনার এই মানসিক অবস্থা আপনার শারীরিক
অবস্থার উপরও প্রভাব ফেলবে।আমরা সবাই-ই জানি
মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে।তাই অবচেতন
মনের শক্তি বৃদ্ধির ফলে আপনার শারীরিক অবস্থাও
ভালো থাকবে।আপনি কম রোগে-শোকে ভুগবেন।
আধ্যাত্নিকতাঃ
আপনি যখন অবচেতন মনকে অনুসরণ করা শুরু করবেন তখন
আপনার মাঝে আধ্যাত্নিকতার বোধ জাগ্রত হবে।
আপনি প্রার্থনা এবং মেডিটেশনের প্রতি অধিক
মনোযোগী হবেন তখন।আপনি আপনার জীবনে যে
সিদ্ধান্ত নিবেন তা হবে অনেক অর্থপূর্ণ। এখানে
আধ্যাত্নিকতা বলতে বুঝানো হয়েছে আপনি এমন
মানসিকতার হবেন যা আপনাকে সবসময় শান্ত,নিজের
লক্ষ্যের প্রতি অবিচল এবং আপনাকে সবসময়
জীবনের প্রতি ইতিবাচক থাকতে শেখাবে।এবং
আপনার অবচেতন মনের শক্তি দিয়ে আপনাকে
জীবনের যে কোনো প্রতিকূল অবস্থাকে অতিক্রম
করতে শেখাবে।
ভালো ঘুমের সহায়কঃ
আপনি আপনার অবচেতন মন থেকে যখন ধীরে ধীরে
সরে যাবেন তখন আপনি ইনসোমনিয়ায় আক্রান্ত
হবেন।আপনার মন প্রশান্ত থাকলে তখন আপনার
ভালো ঘুম হবে কারণ আপনার মস্তিষ্কের সব তথ্য তখন
“Chatterbox” থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে জমা থাকে।
আমরা যখন ঘুমে থাকি তখন আমাদের সচেতন মন
দ্বারা আমরা যে সব তথ্য গ্রহণ করি তা অবচেতন মন
গ্রহণ করে।একই সাথে আপনি আপনার সচেতন মনকে
যাবতীয় হতাশা,দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে একটা
ভালো ঘুম দেবার জন্য তৈরি করেন।
আত্মবিশ্বাসঃ
আমাদের আত্মবিশ্বাস সবসময় বাড়ে কমে আমাদের
মনের সৃষ্ট বিভিন্ন ভয় থেকে এবং এইসব ভয় আসে
ক্রমাগত আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন তথ্য হতে।
কিন্তু আমাদের অবচেতন মন যখন আমাদের উচ্চতর
চিন্তা-ভাবনা থেকে আরো তথ্য গ্রহণ করে তখন
আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।এই অবস্থায় আমরা
বুঝতে পারি যে আমরা আসলে কে! এবং আমরা সঠিক
সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।এর ফলে
নিজেদের প্রতি আত্ম-ভালোবাসা তৈরি হয়
আমাদের।
সাফল্যঃ
যখন আপনার চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক হবে তখন
আপনার সাফল্য অবশ্যই আসবে।আর্থিকভাবে এবং
যে কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি সফল হবেন।
কারণ অবচেতন মন আমাদের ইতিবাচক চিন্তার পথ
দেখাতে সক্ষম।আপনার সফলতায় আপনি নিজেই
অনুপ্রাণিত হবেন তখন।এভাবে এক সময় অবচেতন মন
দ্বারা চালিত হওয়া আপনার দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে
দাঁড়াবে।

দুর দেশের খবর জানার মন্ত


দুর দেশের খবর জানার মন্ত
***দুর দেশের খবর জানাঃ *****
দুর দেশের খবর জানাঃ “আগম নিগম কী খবর লগাবে
সোহহং পারব্রহ্ম কো নমস্কার।” বিধিঃ অনেক
তান্ত্রিক আছে যারা মনে করে যদি কোন ভাবে এক
স্থানে বসে অন্য স্থানের খবর বলে দেওয়া যায়
তাহলে কেমন হয়। অনেক তান্ত্রিক অবশ্য বিভিন্ন
সাধনা দ্বারা এবং কেউ কেউ শুধু মাত্র অনুমান ও
অভিজ্ঞতার দ্বারা অনেক সময় নির্ভূল তথ্য দিয়ে
থাকে যা অনেকে জ্বিন সাধনা বলে চালিয়ে দেয়,
আসলে একজন জ্বিন সাধক কোথাও আসর বসিয়ে
অন্যের খবর বলার মত কাজ করে পেট চালাবে না।
এটি একটি মিথ্যাকথা।। যা হোক আপনি যদি এমন
কাজটি করতে চান তবে উপরোক্ত মন্ত্রটি বিধি
পূর্বক কোন শুভক্ষণে শুরু করে একাধারে ৪০ দিন ২৫০
বার করে জপ করতে হবে। এরপর এটি সিদ্ধ হবে তখন
সাধক কোন সুদ্ধাশনে বসে চোখ বন্ধ করলেই তার
সামনে সে যা জানতে চায় তা দেখতে পাবে।

শিক্ষা থীদের নিদেশনা




শিক্ষা থীদের নিদেশনা
গভির রহস্যপূর্ন এই আত্নিক বিজ্ঞান শিক্ষা করিতে
শিক্ষার্থীর আত্নবিশ্বাস, স্থির সংকল্প, অধ্যবসায়
ও সহিঞ্চুতা থাকা আবশ্যক। যে কেহ এই কয়টি
মানষিক গুনের সাহায্য এই গুপ্ত বিদ্দ্যা ও শাখা
বিজ্ঞান সমূহ হাতে কলমে শিক্ষা করিতে সমর্থ।
উক্ত গুণগুলোর সহায়তায় যে কেবল এই বিদ্দ্যা
চর্চ্চায় সাফল্য লাভ করা যায়, তাহা নয়,
যথোপযুক্তরুপে প্রযুক্ত হইলে উহারা প্রত্যেক গৃহীত
কার্যেই মানুষকে সিদ্ধি দান করিয়া থাকে।
ফলতঃ মানুয়ের কর্ম্ম-জীবনের সাফল্য সমধিক
পরিমাণে উহাদের উপরেই নির্ভর করে।
শিক্ষার্থীর সর্ব্বাগ্রে চাই আত্ন-বিশ্বাস। সে এই
বিদ্দ্যা শিক্ষা করিয়া কৃতকার্য্য্  হইতে সম্পূর্ন
সমর্থ, এরুপ স্থির ধারনাকেই “আত্ন-বিশ্বাস” বা
আত্ন-প্রত্যয় বলে। আত্ন-বিশ্বাসি ব্যক্তিগণ অত্যন্ত
কঠিন কার্যেও সিদ্ধিলাভ করিতে পারেন। আর
স্বীয় ক্ষমতার প্রতি আস্থাশূন্য ব্যক্তি সহজ কার্যেও
সর্ব্বদা বিফলমনোরথ হয়। সংসারের সকল কর্ম্ম
অপেক্ষা নিদ্রিত মনঃশক্তিকে জাগ্রত করিতে
সর্ব্বাপেক্ষা অধিক আত্ন-বিশ্বাসের প্রয়োজন।
এজন্য তাহাকে স্বীয় ক্ষমতার প্রতি দৃঢ়রূপে
আস্থাবান হইয়া শিক্ষায় প্রবৃত্ত হইতে হইবে। তজ্জন্য
তাহাকে এরুপ একটি ধারনা হৃদয়ে সর্ব্বদা বদ্ধমুল
রাখিতে হইবে যে, যখন সহস্র সহস্র ব্যক্তি এই
বিজ্ঞান শিক্ষা করিয়া সফলকাম হইয়াছে তখন সেও
ইহা শিক্ষা করিতে পারিবে। দৃঢ় আত্ন-প্রত্যয়ের
সহিত সে এই উপদেশ গুলির প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন
করিবে, অন্ন্যথায় তাহার সিদ্ধি লাভের আশা অতি
অল্প। চিকিৎসক প্রদত্ত কোন ঔষধের প্রতি রোগীর
বিশ্বাস না থাকিলে যেমন উহার সাহায্য রোগীর
রোগ আরাগ্য হয় না। সেইরুপ এই উপদেশ গুলির প্রতি
আস্থা শূন্য হইলে এই বিদ্দ্যা শিক্ষায় সেও সাফল্য
লাভ করিতে পারিবে না।
তৎপরে সিদ্ধি লাভের নিমিত্ত তাহার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
চাই।সংকল্পের দৃঢ়তাই সিদ্ধি লাভের আদি কারণ।
স্থির সংকল্প ব্যতীত কেহ কখনও এই অদ্ভুত ক্ষমতা
লাভ করিতে সমর্থ হয় না। দুই সপ্তাহে হউক, দুই মাসে
হউক অথবা অপেক্ষাকৃত অধিক সময়েই হউক, যে
পর্যুন্ত তাহার অভীষ্ট সিদ্ধি না হইবে, তদবধি সে
কখনও সংকল্প ভ্রষ্ট হইবে না।এ বিষয়ের কিছু, ও
বিষয়ের কিছু শিক্ষা করা যাহাদের স্বভাব এবং
যাহারা একটি কার্য্য আরম্ভ করিয়া উহার সুসম্পন্ন
না হইতেই অপর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাহারা এই
সকল গুপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষার উপযুক্ত পাত্র নহে।
অতএব, যদি সে এই অদ্ভুদ রহস্যপূর্ন বিষয়টি শিক্ষা
করিতে আন্তরিক অভিলাষী হইয়া থাকে, তবে যে
পর্যুন্ত এই শক্তি তাহার আয়ত্তাধীন না হয়, ততদিন
সে, “নিশ্চিয়ই সিদ্ধি লাভ করিব” বলিয়া দৃঢ়
প্রতিজ্ঞ থাকিবে।
তৎপরে তাহার অধ্যবসায় ও সহিঞ্চুতা অবশ্যক। এই
কর্ম্মময় সংসারে এমন কার্য্য অতি বিরল যাহা
অধ্যবসায় ও সহিঞ্চুতা বলে সম্পন্ন হয় না। একটি
কার্য্য প্রথমে যত কঠিন বলিয়াই বোধ হউক, অধ্যবসায়
ও সহিঞ্চুতার সহিত চেষ্টা করিলে উহা নিশ্চয়
সুসম্পন্ন করা যায়। এই বিষয়গুলো এখানে যতদুর সম্ভব
সরল ভাষায় লিখিত হইয়াছে, এবং আমি আশা করি
যে, শিক্ষার্থী এই নিয়ম-প্রনালীগুলো যথাযথরুপে
অনুসরণ করিলে, সে প্রথম বা দ্বিতীয় চেষ্টাতেই
“শারীরিক পরীক্ষাগুলিতে” কৃতকার্য্য হইবে।আর
যদি সে শিক্ষার প্ররাম্ভে উহাতে দুই-একবার
অকৃতকার্য্য হয়, তথাপি নিরাশ হইয়া চেষ্টা
পরিত্যাগ করিবে না। বরং ধৈর্য্যবলন পূর্ব্বক দ্বিগুন
উৎসাহের সহিত পূনঃ পূনঃ চেষ্টা করিবে এবং
উহাতে সাফল্য লাভ না হওয়া পর্য্যন্ত চেষ্টায় বিরত
থাকিবে না।শিক্ষার্থী শুনীয়া হয়তো আশ্বস্ত হইবে
যে, আমার শিক্ষার প্রাককালীন কোন একটি
বিশেষ পরীক্ষায় আমি ৩৮ বার অকৃতকার্য্য হইয়াও
চেষ্টা পরিত্যাগ করি নাই। ফলতঃ অকৃতকার্য্যতা
হইতে অভিজ্ঞতা জন্মে এবং পরে সেই অভিজ্ঞতাই
মানুষকে যথাসময়ে সিদ্ধির পথে পরিচালিত করিয়া
থাকে।
শিক্ষার্থী আমার নিয়মগুলো সর্ব্বদা গোপনে
রাখিবে, এবং উহার এক বর্নও কাহারো অলস
অনুসন্ধিৎসা পরিতৃপ্তির জন্য কদাপি প্রকাশ করিবে
না।কারন ইহা একটি গোপন বিষয়।যে কোন গুপ্ত বিষয়
গোপনে রক্ষা করার উপরেই উহার কার্য্যকরী শক্তি
নির্ভর করে। এজন্য সাধু-সন্ন্যাসীদের নিকট হইতে
প্রাপ্ত কিম্বা স্বপ্নলব্ধ ঔষধাদির নাম লোকে
অপরের নিকট প্রকাশ করে না। ইহার কোন অংশ যদি
তাহার সহজ বোধ্য না হয়, তবে যে বরাবর আমার নিকট
মোবাইল বা মেইল যোগে যোগাযোগ করিবে।এবং
উহা সবিস্তরে বুঝিয়া লইবে।কিন্তু কখনও অপরকে
দেখাইয়া বুঝিয়া লইবার চেষ্টাও করিবে না।আর সে
কখনও উহার নিয়ম-প্রনালীগুলো অপর কোন ব্যক্তি বা
বই থেকে নিয়ম-প্রনালীর সহিত মিশ্রিত করিয়া
কার্য্য করিবে না।।আমি আমার সাইটের মাধ্যমে
এবং যোগাযোগের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে এই বিদ্দ্যা শিখাইয়া দিব বলিয়া প্রতিশ্রুতি
দিয়াছি।সুতারাং সে তাহার শিক্ষার ভার আমার
উপর সম্পূর্ণরুপে ন্যস্ত রাখিয়া নিশ্চিন্তে থাকিতে
পারে। যদি এই নিষেধ সত্ত্বেও কোন শিক্ষার্থী
ঐরুপ কোন কার্য্য করে, তবে তাহার কৃতকার্য্যতার
জন্য আমি দায়ী হইবো না।
পদার্থ বিজ্ঞানের ন্যায় ত্রাটক বিদ্যারো ভালো-
মন্দ দুইটা দিক আছে, এবং এই শক্তি লোকের উপকার
এবং অপকার দুই রকম কার্যেই নিয়োজিত হইতে
পারে। এই শক্তি দ্বারা মানুষের যেমন অশেষ প্রকার
মঙ্গল সাধন করা যায়, পক্ষান্তরে আবার উহার
সাহায্যে তাহার গুরুতর অনিষ্ঠও সাধিত হইতে পারে।
এই নিমিত্ত শিক্ষার্থীর নিকট আমার একটি বিশেষ
অনুরোধ এই যে, সে যেন মৎ প্রদত্ত এই উপদেশগুলোর
সাহায্যে শক্তি লাভ করিয়া কাদপি কাহারো
কোনরুপ অনিষ্ঠের চেষ্টা না পায়। যাহারা হীন
স্বার্থের  বাশবর্তী হইয়া এই শক্তির সাহায্যে
লোকের অনিষ্ট করিতে প্রবৃত্ত হয়, তাহারা সমাজের
পরম শত্রু। তাহারা মানুষের বিচারালয়ের কবল হইতে
মুক্তি পাইতে পারিলেও পরম নিয়ন্তার বিচারালয়ে
তাহাদের কৃত পাপের সমুচিত দন্ড পাইবে।
শিক্ষার্থী সদুদ্দেশ্যে অনুপ্রানিত হইয়া এই বিদ্দ্যা
চর্চ্চা রুপ সাধনায় প্রবৃত্ত হইলে, সে অল্পায়াসেই
সিদ্ধি লাভে সমর্থ হইবে। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই।।

অদৃশ্য হবার কালো যাদু


অদৃশ্য হবার কালো যাদু মন্ত
ম ন্ত্রঃ বিসমিল্লাহির রহমানির
রহিম।
আলি বা তা ছা-
ইয়া ফা ওয়া হা;
ক্বাফ আলিফের হরফন-
জ্বীন সূরার বাদশা।
দোহাই কামাখ্যা মা;
কেউ যেনো না দেখে মোরে-
দেখলে মা পদ্মা হবে"
রাবণের মহা স্বচ্ছর.!
ডানে থাক ইসরাফিল-
বামে থাক মনাইসা মা"
শরীর এক্ষণি গায়েব হয়ে যা.!
বাক্যের দাপটে বাক্য লড়ে;
বাক্য যদি লড়ে চড়ে-
দোহায় মা পদ্মার মাথা জটা;
কার্তিকের পায়ে পড়ে।
নিয়মঃ মন্ত্র ১২০০ বার পাঠ করে
সিদ্ধি করে নিতে হবে। তারপর ১০৮
বার পাঠ করে প্রয়োগ করতে হবে।
নোটঃ আমার কাছে অনুমতি নিয়ে
কাজ করতে হবে। অন্যথায় বিপদের
সম্মুক্ষিন হতে হবে।।  আপনারা যারা এই অদৃশ্যা হবার
কালো যাদু বিদ্যা টি শিখতে চান আমাদের।সাথে যোগা যোগ করুন। ১০০%গ্যারান্টিতে পশীক্ষন দেয়া হয়
বিফলে পুরো মুলো ফেরত।

গুরুজীর ব্যক্তিগতো জীবনি একটি অধ্যায়


।গুরুজীর ব্যক্তিগত জিবনী হতে একটি
অধ্যায়
প্রচীনকাল থেকেই তিব্বতীয় তান্ত্রিক ও লামাদের
মধ্যে ‘তৃতীয় নেত্র’ জাগরণের সাধনা প্রচলিত আছে
এবং এখনও লামাদের মধ্যে এই বিচিত্র সাধনা পদ্ধতি
অনুসৃত হয়। নিচে এক পর্যটকের প্রত্যক্ষ করা এই
বিচিত্র সাধনা পদ্ধতির বিবরণ দেওয়া হল। তন্ত্র
সাধনায় ভারতের থেকে তিব্বত অনেকটা এগিয়ে
আছে। ওখানে লামাদের অদ্ভুত ক্ষমতা সত্যিই
আশ্চর্যের বিষয়। বেশ কিছু পর্যটক তাদের তিব্বত
যাত্রার বিবরণীতে অনেক প্রকার চমৎকার ঘটনার
বর্ণনা দিয়েছেন। তারা হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে
পারে এমনও বলা হয়েছে। এছাড়া লামাদের যে সব
পরম্পরাগত নিয়মানুসারে বিচিত্র ও অদ্ভুত পদ্ধতিতে
উত্তরসূরী মনোনীত করা হয় তার কার্যক্রম বেশ রহস্যে
ঘেরা। এক লামার মৃত্যুর পর তার অনুগামী শিষ্যেরা
খোঁজ করত তিনি আবার কোথায় জন্ম নিয়েছেন। এই
কারণে সকল অবতারকেই লামা বলা হত। লামাদের
পুনর্জন্মে পূর্ণ বিস্বাস ছিল তাই তারা উক্ত লামার
মৃত্যুর পর তার পুনর্জন্ম কোথায় হয়েছে তা খুঁজে বার
করত। তিব্বতকে তন্ত্রানুগামী রহস্যময় দেশ বলা হয়।
তারী লামাদের বিবরণ এখনও তিব্বতে বিদ্যমান।
তিব্বতের লামরা, যারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী, তারা
পুনর্জন্মে বিশ্বাস রাখে। এর স্পষ্ট অর্থ হল যে তারা
আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাসী। এই প্রসঙ্গে একটি সত্য
ঘটনার উল্লেখ করছি।
মাথার উপর কান পর্যন্ত ঢাকা রোয়া ওঠা চামড়ার
টুপি ও গাঢ় লাল রঙের হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা গাউন পরে
একটি উচু কালো টিলার উপর বসে সে ধ্যানমগ্ন ছিল।
তার ডানহাতে সোনা দিয়ে নক্সা করা একটি পবিত্র
চক্র বরাবর ঘুরছিল এবং তার মুখ থেকে খুব নিচু স্বরে
“ওঁং পদ্মে মণি হুম” ধ্বনি সর্বদা শোনা যাচ্ছিল। তার
ফর্সা, সংকুচিত চেহারা ছিল যথেষ্ট আকর্ষক। আমি
চুপ করে তার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। ধ্যানমগ্ন
অবস্থায় তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করা উচিত নয় এই
ভেবে।
আমার এই দীর্ঘ রোমঞ্চকর যাত্রাপথে এমন বহু লামার
সাক্ষাৎ পেয়েছি, কিন্তু এই বৃদ্ধ লামার চেহারায় যে
তেজ দেখেছি এমনটা আর কারও মধ্যে দেখিনি।
যৌবনকালে সে নিশ্চয়েই অদ্ভুত ধরনের ছিল। আমি
কল্পনায় মগ্ন ছিলাম। কিন্তু দৃষ্টি বরাবর তার উপরেই
ছিল। তার হাতের চক্র একই গতিতে ঘুরে চলেছিল।
চক্রের ঘূর্ণন ও শব্দ পরিবেশকে অমৃতময় করে
রেখেছিল।
হঠাৎ ঐ বৃদ্ধ লামা আমার উপস্থিতির কথা বুঝতে
পারল। সে চোখ মেলে তাকাল। গম্ভীর স্বরে আমাকে
প্রশ্ন করল, ‘তাহলে তুমি এসে গেছ?’
কাল তুমি লমছোংগে ছিলে না? অপরিচিত ঐ
ব্যক্তির সঠিক প্রশ্ন শুনে আমি হতবার হলাম।
“গ্যাংটক থেকে রবিবার রওনা হয়েছে?”
আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, “ আজ্ঞে হ্যাঁ”
সে এবার তার হাতের ঘূর্ণায়মান চক্রটি থামিয়ে
অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সেটাকে চুম্বুন ও নমস্কার করে
নিজের চামড়ার থলির মধ্যে রেখে দিল। যন্ত্রটি
চক্রাকারে ঘোরানো লামাদের একটি পবিত্র কর্ম
অনেকটা আমাদের মালা জপ করার মতো। সেই উঁচু
টিলা থেকে নিচে নেমে সে ঠিক আমার সামনে
এসে দাঁড়াল। বলল, “তামাং গুম্ফা যাবে না?”
হ্যাঁ। আমি প্রত্যত্তরে বললাম।
সে এবার আগে আগে চলতে লাগল আর আমি তাকে
অনুসরণ করতে লাগলাম। এবার আমার পূর্ণ বিস্বাস হল
যে উক্ত লামা নিশ্চিত কোন সিদ্ধ পুরুষ। মানুষের
মনের কোন খবরই তার অজানা নয়। তাকে কিছু বলার
প্রয়োজনই হল না। সে সবই জানত। ঠিক এই রকমই
লমছোংগেও এক লামার দেখা মিলেছিল।
আমাকে দেখেই সে বলেছিল “তামাং গুম্ফা যাবে
না?”
আমি হ্যাঁ বলার পর সে ওখানে যাবার
পথ বাতলিয়ে দিয়েছিল।
সকাল সকাল উঠে ভাড়া করা খচ্চরের পিঠে আমি
রওনা হলাম। খচ্চরওয়ালা পাহাড়ের তলদেশে এসে
আমাকে বলল, “তামাং গুম্ফা এই পাহাড়েই আছে”
সে দুবার রাস্তার হদিশ দিয়ে চলে গেল, বলল, “উপরে
গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করে নেবে” আমি ও ঠিক
তেমনই করলাম। চড়াই পেরিয়ে অনেক সংকীর্ণ ও
কঠিন রাস্তা পাড়ি দিয়ে উপরে এসে সর্বপ্রথম সেই
লামাকেই নজরে এল, যে ধ্যানমগ্ন ছিল এবং এখন
আমাকে তার সাথে নিয়ে যাচ্ছে।
কিছুটা দূরে ঘূর্ণায়মান পথ ছিল। বড় বড় পাহাড়ের
পাশ দিয়ে ঘুরে ঘুরে ঐ পথ নিচে নেমে গেছে।
কিছুটা পথ পেরোতেই একটি বড় গোল গম্বুজওয়ালা
বাড়ি নজরে এল। এর কালো পাথর ও গঠনশৈলী বলে
দিচ্ছিল যে এটা একটিা গুম্ফা। হয়তো এটাই তামাং
গুম্ফা।
এর সংকীর্ণ পাথরের দরজা দিয়ে সে ভিতরে চলে
গেল। আমি তাকে অনুসরণ করলাম। আসলে এটা একটা
খব সুন্দর গুম্ফা। এখানে বেশ কিছু ভগবান বুদ্ধের মূর্তি
বানানো আছে।
যত্রতত্র অনেক লামাকে দেখতে পাওয়া গেল। তাদের
মাথায় কান পর্যন্ত ঢাকা টুপি, রং বেরং এর
গাউনপরা এবং প্রায় সবারই হাতে ধর্মচক্র ঘুরছে।
গুম্ফার মধ্যে থেকে “ওঁম্ পদ্মে মণি হুম” এর মিষ্টি
ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ঐ লামা সোজা সামনের ঘরে
চলে গেল। সেই ঘরে ভগবান বুদ্ধের একটি সম্পূর্ন নগ্ন
মূর্তি রাখা আছে।
তার নিচে পাথরের কয়েকটি চেয়ার রাখা আছে।
একটি চেয়ারে তিনি নিজে বসে আমাকেও বসতে
ইঙ্গিত করলেন। আমি বসে পড়লাম।
“এটিই তামাং গুম্ফার” তিনি বললেন। জিজ্ঞেস
করলেন, “কার সাথে দেখা করতে চাও?”
ঐ গুম্ফার শান্ত, ধার্মিক ভাবগম্ভীর পরিবেশে আমি
মুগ্ধ হলাম। প্রশ্ন শুনে আমি যেন স্বপ্ন থেকে জেগে
উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে বললাম ‘লাম গুরু ছেরিংগের
সাথে। ওনার নিমন্ত্রণেই আমি এখানে আসতে সাহসী
হয়েছি।
উত্তর শুনে লামার মুখে চওড়া ব্যঙ্গ হাসি ফুটে উঠল।
হয়তো উনি আমাকে উপহাস করছিলেন। হঠাৎই আমি নত
মস্তক হয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বললাম “ আপনাকে
প্রণাম”
লামা ছেরিংগ হেসে উঠলেন। এবার বললেন “এ
যাত্রা তো খুবই দর্গম তবে বিশেষ কষ্ট হবে না।” আমি
বললাম, “না প্রভু এ যাত্রা তো দুর্গম বলে মনে হয়নি
বরং বেশ রুচিকর বলেই মনে হয়েছে।” “তোমার চিঠি
গ্যাংটক থেকে আমার লোক গিয়ে নিয়ে এসেছিল।
কিন্তু তুমি জানো কি যে ওটা ছিল সিকিম আর এটা
তিব্বত?”
আমি হেসে ফেললাম।
“তোমার সাথে ভিক্ষুণী মায়ার দেখা হয়েছে?”
আমি বললাম, হ্যাঁ পথে দেখা হয়েছিল। সে বলেছিল,
আপনি তামাংদেরই একজন। “এখানে আসার ইচ্ছা তো
তখনই ছিল, কিন্তু তোমার আসার কথা শুনে দেরি হল।
চিনারা এখানকার অনেক কিছুই তছনছ করে দিয়েছে।
এখন আমি ও এখান থেকে চলে যাব।”
আমি আমার সামনে গম্ভীর হয়ে বসা লামা গুরু
ছেরিংগকে অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম। মনে প্রশ্ন
জাগলো, সর্বব্যাপী , সর্বত্র, অন্তর্যামী যিনি, যিনি
এতবড় একজন সাধক, সেই লামাগুরু কেন চিনাদের হাত
থেকে এই সব জিনিসকে বাঁচাতে পারলেন না? তন্ত্র
কি এতই দুর্বল?
আমাকে মৌন দেখে লামা গুরু ছেরিংগ বলে উঠলেন,
তুমি যা চিন্তা করছো তা আমি বুঝতে পারছি। হয়তো
পথেও এই কথা তোমার মনে এসেছিলো। কিন্তু দেখ
আমরা প্রকৃতির কাজে বাধা দেই না। দুশো বছর আগে
আমাদের গুরু বলেছিলেন, তিব্বতের উপর একদিন হলুদ
রাক্ষসের জোরদার আক্রমন হবে। আমাদেরকে এটা
প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু েএর ফলে প্রকৃতির পূর্ভ
নির্ধারিত নিয়মকে ভাঙ্গতে হবে। একে আমরা কেমন
করে ভাঙ্গব? না তা সম্ভব নয়। এ সব আমাদের ভুগতেই
হবে। এটাই নিয়তি।
উনি উঠে গেলেন। হঠাৎ আমি চমকে গেলাম। ওখান
থেকেই চিৎকার করে বললেন ঠুনঠুন ! এ তুমি কী করছো?
এ কথা বলেই উনি খুব জোরে ছুটে গেলেন।
আমি এক মুহুর্তের জন্য অবাক হয়ে তখনি তার পিছু
ধাওয়া করলাম। হয়তো গুম্ফার মধ্যে কোন অঘটন ঘটে
গেছে। তার পূর্বাভাস পেয়েই লামা ছেরিংগ ছুটে
গেছেন। উনি সামনের দরজা খুলে উপরে উঠতে
লাগলেন।
ওটা একটি গলির দরজা। গলির শেষে সিঁড়ি। সিঁড়ির
উপর আবছা আলো। ওনার পিছনে আমিও ছিলাম।
সিঁড়িতে চড়তেই সামনে একটা ছোট সবুজ মাঠ দেখতে
পেলাম। চারিদিকে উচুভুমি দিয়ে ঘেরা।
লামা গুরু ছেরিংগ সামনে এগিয়ে গেলেন।
কিছু দুর থেকে আমি দেখলাম একটা নিম গাছের
নিচে বেশ বড় জায়গা ঘিরে আগুনের বেষ্টনী জ্বলছে
আর তার উপরে একটা কড়াই চড়ানো আছে। ঐ কড়াইতে
অজানা কোন বস্তু ফুটছে। নিম গাছের সাথে একটা
চোদ্দ পনের বছরের ছেলেকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
তার হাত পা পিছমোড়া করে বাঁধা। পা থেকে কোমর
পর্যন্ত তার গাছের সাথে বাাঁধা। হয়তো ছেলেটা খুব
ঘাবড়িয়ে গেছে। ভয়ের কারণে সে মাঝে মাঝেই
জিভ দিয়ে শুকনো ঠোটেকে ভিজিয়ে নিচ্ছল।
লামা গুরু ছেরিংগ কিছুদুর থেকে চেঁচিয়ে
জিজ্ঞাসা করলেন-ঠুনঠুন! ত্রি জটার মালিশ দিয়েছ
একে? কড়াইটার পাশে একটি বেটে লামা
দাঁড়িয়েছিল। তার হাতের ত্রিশুলটা ঝকমক করছিল।
সে ছেলেটাকেই মনোযোগ দিয়ে দেখছিল।
হঠাৎ লামা গুরু ছেরিংগ এর কষ্ঠস্বর শুনে চমকে ঘুরে
তাকাল। ততক্ষণে লামা গুরু ছেরিংগ তার একদম
পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। উনি তার বক্তব্যের
পূনরাবৃত্তি করলেন। লামা ঠুঠুন যেন চমকে গেল। তার
চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। হয়তো সে তার নিজের
দোষ বুঝতে পেরেছিল। তার মাথা নিচেু হয়ে গেল।
তিনি আরও বললেন- আমি সব দেখছিলাম। আমি যদি
সব দিকে নজর না রাখি তাহলে তোমরা যে কী করে
বসবে তা জানি না। ছেলেটা মরে যেত যে।
লামা ঠুনঠুন ভীতস্বরে অত্যন্ত বিনীত ভাবে বলল,
গুরুদেব, আমি ভুলে গেছিলাম।
তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, তুমি সরে যাও। শেষ পর্যন্ত
এ কাজ আমাকেই করতে হবে।
বেঁটে লামা মাথা নিচু করে একদিকে সরে গেল। হঠাৎ
লামা গুরু ছেরিংগ এর খেয়াল হল যে আমি এখানে
আছি। তিনি তিব্বতী ভাষায় সবাইকে সব কিছু বুঝিয়ে
বলে দিলেন। এতে সবাই নিশ্চিন্ত হয়ে গেল।
আমি আর একটু কাছে চলে গেলাম।
ছেরিংগ বললেন- চুপ চাপ সব দেখে যাও।
আমি নির্বাক, পাথরের মতো দৃষ্টি নিয়ে সব কিছু
দেখতে লাগলাম। এবার লামা গুরু ছেরিংগ কড়াইতে
রাখা হাল্কা ছাই রঙ্গের বস্তুটিকে হাতার সাহায্যে
ছেলেটির সারা দেহে ছিটিয়ে দিতে লাগলেন।
যেভাবে হোলির সময় বাচ্চারা নোংরা বস্তু দেহে
ছুড়ে মারে, ঐ ভাবেই বস্তুটি তার সারা শরীরে
পড়তে লাগলো। যেখানে পড়ছে সেখানেই তা আটকে
যেতে লাগল আঠার মতো। ছেলেটি সমানে চীৎকার
করে যেতে লাগল। তার শরীরের মাংস, চর্বি সব গলে
গলে নিচে পড়তে লাগল। কিছুক্ষণ বাদে ছেলেটা
মাখামাখি হয়ে গেছে। তার সাথে সাথে তার
দেহের সব মাংস ও চর্বি গলে গলে নিচে পড়তে
লাগল। তার মাংস, চর্বি ও রক্ত গলে গলে পড়ছিলো ও
পায়ের দিকে গড়িয়ে নিচে জমা হচ্ছিল। মানব
দেহের মাংসের খন্ড ও চর্বি এইরকম শ্মশানে চিতায়
জ্বলতে দেখেছি বা কোন পুড়ে যাওয়া মানুষের
শরীরে দেখেছি। কিন্তু এখানে তো সরা শরীর গলে
গলে পড়ছিল। ঠিক যেমন জ্বলন্ত মোমবাতীর মোম
গলে গলে পড়ে। তার শরীরের সব মাংস মোমের মত
গলে গলে নিচে পায়ের কাছে জমা হচ্ছিল। রক্তের
ধারা আমার কাছ পর্যন্ত এসে গেছিল।
হতবাক হয়ে আমি সব কিছু দেখছিলাম। বিষ্ময়ে চোখ
বিস্ফারিত হচ্ছিল। আমার লোমকুপ ভয়ে খাড়া হয়ে
যাচ্ছিল। দেখতে দেখতে ছেলেটির দেহ কঙ্কালে
পরিণত হল। হাড় দিয়ে তৈরী একটি কঙ্কাল। তার সেই
সুন্দর শরীর নিমেষেই শুধু হাড় বিশিষ্ট কঙ্কালে
পরিণত হল।
একবার লামা ছেরিংগ ঘুরে আমাকে দেখলেন। তার
আগুনের গোলার মতো চোখ দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত
হলাম এবং পিছে হটে গেলাম। পা বাঁধা কঙ্কালটা
খাড়া হয়ে দঁড়িয়েছিল। তাকে যা দিয়ে বাঁধা
হয়েছিল সেটাও গলে গেছিল। তার সমস্ত মাংস, চর্বি
গলে নিচে পড়েছিল। লাল, সাদা রঙ্গের টুকরোগুলো
টপটপ করে পড়ছিল।
হঠাৎ উপস্থিত সব লামা নিজেদের অঞ্জলি ভরে ভরে
ঐ রক্ত মাংস, চর্বি ইত্যাদি কড়াইতে ফেলতে
লাগলো। দেখতে দেখতে সবটাই কড়াইতে রাখা শেষ
হলো। মাংস ভাজার তীব্র কটু গন্ধে আমার মাথা
ঘুরতে লাগল। ঐ সব জিনিসগুলো খুব দ্রুত কড়াইতে
ফেলা হয়েছিল। লামারা কোন অশ্রুতপূর্ব শব্দ বলে
যাচ্ছিল। যখন সবটা কড়াইতে ফেলে নাড়া চাড়া
করা শেষ হল তখন আবার হাতার সাহায্যে কঙ্কালের
উপর ছিটাতে লাগল। এমন ভাবে ফেলতে লাগল যে,
যেখানেই পড়লো কঙ্কালের হাড়ের সাথে আঠার
মতো লেগে রইল। এই ভাবে ধীরে ধীরে পুরো
কঙ্কালটা ঢাকা পড়ে গেল। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য
ঘনত্ব কমবেশি হল।
বেঁটে লামা ঠুনঠুন তার হাতের সাহায্যে সেগুলো
সমান করে দিতে লাগল।
দেখতে দেখতে কঙ্কালটা একটা মুর্তিতে পরিণত হল।
তখন ঠুনঠুন তার কপালের ঠিক নিচে একটি চোখ
বানিয়ে দিল। তারপর তার উপর এক পরত রক্ত মাংস
মিশানো বস্তু দিয়ে তা ঢেকে দিল।
তার এ টুকু করার পরই লামা গুরু ছেরিংগ ওখানে রাখা
তামার একটা কলসি থেকে কিছুটা তরল বস্তু নিয়ে ওর
উপরে ছড়িয়ে দিলেন। ঐ দেহ খাঁচাটা যেন তাতে
স্নান করে ফেলল। এবার লামা ঠুনঠুন দেহটা মুছতে
লাগল। একটা বিচিত্র ধরনের কাপড় তার হাতে ছিল।
তাই দিয়েই সে মুছতে শুরু করল।
এরপর এক বিশেষ ধরনের মালিশ লাগিয়ে দিল।
যখন ঐ মালিশ লাগন শেষ হলো তখন লামা গুরু
ছেরিংগ ছেলেটির দেহে কিছু একটা ছিটিয়ে
দিলেন। একটা অদ্ভুত তেজাল গন্ধে আমার নাক ফেটে
যাচ্ছিল।
লামা গুরু ছেরিংগ অস্ফুট স্বরে কিছু একটা বললেন
এবং ছেলেটির মুর্তি হড়বড় করে যেন গভীর ঘুম থেকে
জেগে উঠে প্রানবন্ত হল।
আমি লামা গুরু ছেরিংগ এর সামনে মাথা নত করলাম।
অতিথিরুপে তিনি আমাকে গুম্ফায় রেখেছিলেন।
এবার আমি ফিরে চললাম। সকুশলে ফিরে এসে শুনলাম
যে তিব্বতের উপর চিনের পুরা অধিকার হয়ে গেছে।
আমার এ সফর দীর্ঘ ও কষ্টপ্রদ অবশ্যই ছিল তবুও আমি
ভাগ্যবান যে আমি আমার জীবন কালেই মরা মানুষের
পূনজর্ন্ম ( অবশ্যই তন্ত্র ও ঔষধের দ্বারা) ও তৃতীয়
নেত্র দেখতে পেয়েছি। জানি না লামা গুরু ছেরিংগ
এখন কোথায়? কিন্তু যখনই তার কথা মনে আসে আমি
তাঁকে প্রণাম করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমার
প্রণাম তাঁর কাছে অবশ্যই পৌঁছেছে।।

পুরাতন পোষ্ট গুলি দেখুন